রুইমাছ দিয়ে কচুর মুখি রান্না


মুখি বরারবরই আমার প্রিয়। ইলিশ মাছের সাথে যদি মৌলভীবাজারি মুখি হয় তাহলে তো আর কথাই নেই। একটা ইলিশা খেতে আমি একাই একশো।

সিলেটে মৌলভীবাজারি মুখি খুব প্রসিদ্ধ। আজকালকার ছেলেমেয়েরা এইসব জানেনা এমনকি এইসবের তফাৎটাও বুঝবেনা। কারণ জামানা পাল্টাইছে। আমি শিখেছিলা আমার নানার কাছ থেকে। 

সিলেটের মানুষ ইলিশ মাছ দিয়ে মুখি সবসময়ই খায়। আমি একটু ভিন্ন চিন্তা করলাম। রুইমাছ দিয়ে রাঁধলে কেমন হয়? ভাবনানুযায়ী রেঁধেও ফেললাম। মজার বিষয় জানেন কি? আমার কাজের স্টাফরা আমার জন্য কিছুই বাকি রাখেনি একটুকরো মুখি আর মাছ ছাড়া। কি লজ্জার বিষয় তাইনা? আরে নাহ, খেতে আবার লজ্জা কিসের?

রুইমাছ দিয়ে মুখি চাইলে আপনিও বাসায় ট্রাই করতে পারেন।

উপকরণঃ
১ কেজি ওজনের মাছ 
৮/১০টি মুখি
৩ টি পেঁয়াজ বড় সাইজের
৫/৬টি রসুনের কড়া
আধা কাপ তেল
১টেবিল চামচ হলদি পাউডার 
৩ কোয়ার্টার টেবিল চামচ ধনিয়া পাউডার 
১ টেবিল চামচ মরিচের গুঁড়ো।এবং লবন স্বাদ অনুযায়ী। 

প্রণালীঃ
চুলায় পাতিল গরম করে তেল ঢেলে দিন। তেল গরম হয়ে আসলে পেঁয়াজ, রসুন এবং লবন একসাথে ছেড়ে দিন। (চাইলে পেঁয়াজ এবং রসুন ব্লেন্ড অথাবা পাটাপুতায় বাটা করে নিতে পারেন সময় এবং গ্যাস বাঁচানোর জন্য)। এবার ভাল করে নেড়ে আধা লিটার পানি দিয়ে ১০/১৫ মিনিটের জন্য রেখে ঢেকে নিয়মিত খেয়াল রাখুন। পানি শুকিয়ে গেলে হলদি, ধনিয়া ও মরিচের গুঁড়া দিয়ে দিয়ে ভাল করে নেড়ে একদম স্লো ফ্লেইমে রেখে দিন ৫/৭মিনিটের জন্য। নিয়মিত খেয়াল রাখুন যাতে পুড়ে না যায়। এবার কাটা মুখি ছেড়ে দিয়ে নেড়ে আরো ৫/৭ মিনিটের জন্য ঢেকে রেখে দিন। মুখি বেশিক্ষণ কষানো যাবেনা কারণ গলে যেতে পারে। এবার মাছে ছেড়ে দিয়ে এক মিনিট কষিয়ে আধা লিটার পানি দিয়ে আগুন ফুল ফ্লেইম দিয়ে ঢেকে রাখুন। মিনিট দশেক পরে পানি ঘন হয়ে আসলে কাঁচামরিচ আর ধনিয়া পাতা দিয়ে আগুন বন্ধ করে দিন। ব্যাস হয়ে গেল রুইমাছ দিয়ে মুখি। কিছুক্ষণ পর ঢাকনা সরিয়ে সুগন্ধ নিন। আহ, কি মজার ঘ্রাণ…… 
গরম ভাতের সাথে সার্ভ করুন।

Comments